কালারপোল হাজী মো. ওমরা মিয়া চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও প্রধান শিক্ষক বহাল!

 ২০১৯-০৭-১১  ০৮:১৮ পিএম
 জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

কালারপোল হাজী মো. ওমরা মিয়া চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও প্রধান শিক্ষক বহাল!

দুর্নীতি, নারী কেলেংকারী, অর্থ আত্মসাৎ ও কোচিং বাণিজ্যের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ মিললেও বহাল তবিয়তে আছেন কালারপোল হাজী মো. ওমরা মিয়া চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী! এমন দাবি তুলেছে স্থানীয় জনগণ। ওদিকে কর্ণফুলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলোর তদন্ত করে দু’মাস আগেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘আমি শুনেছি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেছেন। আমি তো গত দুমাস আগে বিভিন্ন ডকুমেন্ট সহ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করেছি। যা পর্যালোচনার পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে হয়তো।’ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী’র বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, যৌন হয়রানির মতো জগন্য বিষয়গুলো প্রমাণিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে প্রশাসন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, নানা কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কেন না একই বিষয়ে প্রচার মাধ্যমে বিভিন্ন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ম্যানেজিং কমিটির দুর্বলতা বিষয়ে কথা রয়েছে। ভেতরের গোমর ফাঁস হবে এমন আশঙ্কায় কমিটির অনেক সদস্য এই বিষয়ে নীরব। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। অনেকে আবার পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য করেন। খবর নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসের প্রথম দিকে কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নারী কেলেংকারী ও কোচিং বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠে। পরে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অভিযোগকারী ১৬ জন ও প্রধান শিক্ষক’কে তদন্তে হাজির হতে বলেন। কিন্তু ১৬ জন অভিযোগকারী হাজির হলেও পিকনিকের অজুহাতে প্রধান শিক্ষক হাজির হন নি বলে শিক্ষা অফিসের দাবি।

পরে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গত ৬ মে উমাশিঅ/কর্ণ/চট্ট/২০১৯/২৮ নং স্মারকে দুই পৃষ্ঠার (সংযুক্ত ৮ পাতা) তদন্ত প্রতিবেদন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে জমা দেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদ উল হক চৌধুরী’র নির্দেশে কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিগত ১০ বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, আর্থিক ও নিরীক্ষা কমিটি থাকলেও আয় ব্যয়ের ব্যাপারে শিক্ষকদের কোন মূল্যায়ন করা হয় না। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক সভাপতি’কে জানিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেন করে থাকেন। যা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

অভিযোগের তদন্তে আরো বলা হয়, ২০১৮ সালে ম্যানেজিং কমিটির ৪জন সদস্য প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী’র বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ তুলেন। যা পরবর্তীতে কয়েকটির সত্যতা পান। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক অন্যান্য সহকারি শিক্ষক ও কর্মচারীকে কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দিতেন এবং শিক্ষকদের কর্মকর্তা মানতেও নারাজ ছিলেন তিনি। এমনকি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলো সত্য জানিয়ে শিক্ষা অফিসার প্রতিবেদনে জানান, কৌশলে সভাপিত’কে হাতে রেখে প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাসে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা করে বেতন নিতেন। যা সরকারি বেতন ভাতা থেকেও অনেক বেশি।

তদন্তে প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ্য করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকাকালিন ছাত্রীদের অশালিন আচরণ ও বিরুপ কর্মকান্ডের কারণে অভিযুক্ত হলে বিদ্যালয় সভাপতি এবং তৎকালিন ইউএনও মো. জসিম উদ্দিনের নির্দেশে বহিষ্কৃত হন। সম্প্রতি কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারো তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে।


তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী কয়েকজন মহিলা শিক্ষকও তথ্য দিয়েছেন, বিভিন্ন কাজের বাহনায় তাঁদের’কে প্রধান শিক্ষক সামনে বসিয়ে রেখে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে উত্যক্ত করতেন এবং জোর করে তার অফিসে বসিয়ে রাখতেন। যা এলাকায় খুব চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত ৮জুলাই অভিযুক্ত শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধন করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি অধ্যাপক এম মহিউদ্দীন চৌধুরী বলেন,‘আমরা বিষয়টির সিদ্ধান্ত নিতে স্কুলে বৈঠকে বসেছিলাম কিন্তু প্রধান শিক্ষক আসেন নি। শেষে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে এড়িয়ে যান।’

বিদ্যালয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে স্কুলে গেলে মারবে বলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে মুরাদ ও সাগর নামে দুজন লোক। তাঁরা ফেইসবুকে লিখেছে স্কুল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেবেন। তাই ভয়ে স্কুলে যাইনি।’ প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম কমিটির বিভিন্ন সদস্যদের মোবাইল ফোনে রিং করে বৈঠকে আসতে বাধ্য করছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। স্কুল সভাপতি ও একেক সময় একেক কথা বলতেছেন। নিজে রেজুলেশন

করে আবার নিজেই তা ছিঁেড় ফেলতেছেন।’ যদিও এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিকলবাহার ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আগামীকাল হজ্বে যাচ্ছি। আমি তো স্কুল কমিটির কেউ না। আমি কেন কমিটির সদস্যদের রিং করবো। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা।’ অপরদিকে মুরাদ ও সাগর নামে শিকলবাহার দু’ব্যক্তি মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, ‘তাদের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের আনীত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই এবং সম্পুর্ণ মিথ্যা তাঁরা কাউকে ভয়ভীতি দেখান নি।’

তদন্তে শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশে বলা হয়, অভিযোগ গুলো প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী’র বিভিন্ন যৌন হয়রানি ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দুই ভাগে বিভক্ত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে বিঘিœত হচ্ছে। অভিভাবকেরাও তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ ছিল কালারপোল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নারী কেলেংকারী, অর্থ আত্মসাৎ ও কোচিং বাণিজ্যের কিন্তু প্রতিবেদনে আনীত এসব অভিযোগের বস্তুনিষ্ঠ কোন প্রমাণ যুক্ত না করে বেশির ভাগ প্রধান শিক্ষকের অতীত কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়েছে কেন সে

বিষয়েও কথা রয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উচ্চ তদন্তের। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যতা জানিয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত বিধি সম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খুলনার বটিয়াঘাটায় অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছেংগারচর পৌর আওয়ামী যুবলীগের ৩নং ওয়ার্ড ত্রি -বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

যশোর জেলার শ্রেষ্ট পুলিশ অফিসার নির্বাচিত এএসআই মিরাজ

খুলনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ নিহত ৪

শিশু তুহিন হত্যা;বাবা কোলে করে বাহিরে নিয়ে যায়,পরে চাচা ও চাচাতো ভাই মিলে হত্যা করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তসিকুল-নজরুল-নাসরিনের জয়

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উপদেষ্টা ফাহাদ সংবর্ধিত

বিশ্বব্যাপী লায়ন্স ক্লাব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভুমিকা রাখছে, লায়ন্সের জন্ম উৎসবে গভর্ণর কামরুন মালেক

১০,৬৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস জব্দ।

রৌমারীতে বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন।

একতা গোষ্ঠীর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দিন

মতলব উত্তর থানার নবাগত ওসি’র সাথে গ্রাম পুলিশের মতবিনিময়

ছেংগারচর পৌর আওয়ামী যুবলীগের ২নং ওয়ার্ড ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মী দেবী সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে অর্থকষ্ট থাকবে না ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে-উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৬৯ বোতল ফেনসিডিল ও গাজা সহ আটক দুই নারী।

খুলনায় চলছে অনির্দিষ্টকালের অটোরিকশা ধর্মঘট

যশোরের বাগআঁচড়ায় দৈনিক সমাজের কথা'র ১১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

সরাইলে পরগনা সম্পাদককে সংবর্ধনা রিপোর্টার্স ইউনিটির

উপজেলা চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল লীগ-২০১৯ প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

কর্নফুলীতে মমতা’র ফলজ চারা ও কৃষিজ উপকরণ বিতরন