গাজী রাসেল হাসান ও আবুল মনসুর, ইজতেমা ময়দান থেকেঃ ইজতেমার শেষ দিন রবিবার (২৮ জানুয়ারী) ফজরের নামাজের পর পরই মুসল্লিরা দুর দুরান্ত থেকে পায়ে হেটে বা গাড়িতে করে আসতে থাকে আখেরী মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য। ফজর নামাজের পর থেকে মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মাওলানারা হেদায়াতি বয়ান করেন।

হেদায়াতি বয়ানে বলা হয়- ভয় করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে, অন্য কিছুকে ভয় করা যাবে না। যা আল্লাহর ভয়কে অন্তর থেকে বের করে দেয়, ইমান বিনষ্ট করে সে পরিবেশ থেকে তাকে বের করে আল্লাহর ঘর মসজিদে নিয়ে আসতে হবে। মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করলে ফজিলত বেশি। আল্লাহ তালার হুকুমের খেলাপ করা যাবে না। যে হুকুমের খেলাপ করবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গুনাহগার হবে। আমাদের নেক আমলের মধ্যে থাকতে হবে। যখন বান্দা অনুতপ্ত হয়ে অন্তর থেকে মহান আল্লাহ তালার কাছে মাফ চান, আল্লাহ তাদের গুনা মাফ করে দেন।

আখেরী মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য উপস্থিত হন হাটহাজারী আসনের সাংসদ ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাগন। আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় আলেম মওলানা হাফেজ জুবায়ের আহমেদ (দা:বা:)।

মোনাজাত শুরু হয় সকাল সাড়ে দশটা থেকে। প্রায় ২০ মিনিট ব্যাপী মোনাজাতে আল্লাহর নিকট মুসলিম উম্মাহর কল্যান কামনা, দেশ-জাতির শান্তি-কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালে মুক্তি কামনা করা হয়। মোনাজাত চলাকালে ইজতেমাস্থল ও আশপাশ এলাকা থেকে শুধু ভেসে আসে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কন্ঠে আমিন” আমিন” আমিন” ধ্বনি। নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, দুনিয়া ও আখেরাতের সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজতের আশায় দুই হাত তুলে অনুনয়-বিনয় করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করেন আখেরি মোনাজাতে শরিক হওয়া মুসল্লিরা।

আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিরা শীত উপেক্ষা করে ফজরের নামাজের পর থেকেই ইজতেমা ময়দানে আসেন। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইজতেমা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা দেন। সকাল ৯টার দিকে নানা বয়সী ও পেশার মানুষ ইজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে গেলে মুসল্লিরা হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে আশপাশে অবস্থান নেন।

শতশত মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে যাওয়ার আগেই মোনাজাত শুরু হয়ে গেলে মুসল্লিরা দোকানে, রাস্তার ধারে মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশ এলাকায় যে দিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষের কাফেলা। মোনাজাতের পর পর মানুষের ভীড়ে সাময়িক সময়ের জন্য চট্টগ্রাম নাজিরহাট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। গত ২৬ জানুয়ারী (শুক্রবার) থেকে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া গ্রামে ইজতেমা উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।