বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা ৪জি চালুর জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে কবে নাগাদ বাংলাদেশে 4G চালু হবে সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। উন্নততর ৪জি সেবা আসতে পারে এই ডিসেম্বরের মধ্যে, অথবা ২০১৮ পর্যন্তও আমাদের এজন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিন্তু, ইতোমধ্যেই অন্তত দুটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি এখনই গ্রাহকদেরকে ৪জি সিম রিপ্লেসমেন্ট নিতে উৎসাহ দিচ্ছে। কিন্তু কেন? আপনার কি এটা এখনই দরকার? চলুন সেই আলোচনা করি। 4G কী? খুব সহজ কথায়, ফোরজি হচ্ছে ৪র্থ প্রজন্মের (থ্রিজি’র পরবর্তী) মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি।

৪জি/এলটিই’র মাধ্যমে উন্নততর তারবিহীন নেটওয়ার্ক সেবা দেয়া যাবে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চলমান এটাই সর্বাধুনিক মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক। ফোরজির সুবিধা কী? ৪জি নেটওয়ার্কে থ্রিজির চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি স্পিডের ইন্টারনেট পাওয়া যাবে, যা ব্যবহার করে আরও ভাল মোবাইল ওয়েব সেবা, গেমিং সেবা, আইপি টেলিফোনি, এইচডি/ফোরকে টিভি, থ্রিডি টিভি, ভিডিও কনফারেন্স, উন্নততর ক্লাউড কম্পিউটিং প্রভৃতি ব্যবহার করা যাবে। বাস্তবে ফোরজির স্পিড বাংলাদেশে কেমন পাবেন, তা জানতে এটা চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে থ্রিজির চেয়ে তো বেশি হবে বটেই।

ফোরজির জন্য আলাদা সিম কেন? প্রযুক্তিগত কারণেই আপনার বিদ্যমান সিম কার্ডের সাহায্যে শুধুমাত্র ২জি এবং ৩জি নেটওয়ার্ক রিসিভ করতে পারবেন। ৪জি নেটওয়ার্ক এই সিমে সাপোর্ট করবেনা। এ ব্যাপারে আপনার সিম কার্ড পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা। সুতরাং আজ হোক, কাল হোক, ফোরজি উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ফোরজি সাপোর্টেড সিম কার্ড নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তবে ভয়ের কিছু নেই, এতে আপনার মোবাইল নম্বর আগেরটাই থাকবে, শুধু সিম কার্ডটা নতুন পাবেন। ৪জি সাপোর্টেড সিমগুলো ইউসিম / USIM নামে পরিচিত। এগুলো ২জি, ৩জি এবং ৪জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। যেসব সিমে ৪জি সাপোর্ট আছে, সেগুলোতে 4G অথবা U লেখা থাকবে। আপনার এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের দরকার হলে অপারেটরের কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে যোগাযোগ করুন। গ্রামীণফোন গ্রাহকরা তাদের সিম ৪জি সাপোর্টেড কিনা তা জানতে *১২১*৩২৩২# ডায়াল করুন। ফিরতি এসএমএসে জানতে পারবেন যে আপনার সিমটি ৪জি সাপোর্ট করে কিনা।