দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান। ডানামেলেছে স্বপ্নের। নানান প্রস্তুতির পর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে চলা। ঘটেছে কয়েক হাজার
উদ্যমী তরুণ-তরুণীর মিলন মেলা। প্রশ্ন জাগবে নিশ্চয়- কী সেই মিলন মেলা? গল্পটা অষ্টাদশ আঞ্চলিক রোভার মুট-১৭ এর। রাজধানীর
অদূরেই গাজীপুরের বাহাদুরপুরের রোভার পল্লী। যেখানে গড়ে ওঠেছে রোভার স্কাউটদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। স্কাউটিং এ তিনটি ধাপ-কাব
স্কাউট, স্কাউট ও রোভার স্কাউট। রোভার স্কাউটই স্কাউটিং-এর সর্বোচ্চ পর্যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে অসংখ্য-অগণিত রোভার। যাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে দক্ষ রোভারদের সুযোগ হয় এমন মিলন মেলায় অংশগ্রহণ। বাংলাদেশ স্কাউট’স রোভার অঞ্চলের
আয়োজনে পাঁচ বছর পর (২৬-৩১ ডিসেম্বর-২০১৭) “শতবর্ষে রোভারিং, সুনাগরিক প্রতিদিন” স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো অষ্টাদশ আঞ্চলিক রোভার মুট। সরকারের উচ্চপদস্ত কর্মকর্তাদের পদচারণাও ছিলো চোখে পড়ার মতো। বর্ণিল সাজে উদ্বোধন, জমকালো আয়োজনে
মহা তাঁবু জলসা আর রোভারিং এর শতবর্ষ উদ্যাপন ছিলো মুটের মূল আকর্ষণ। কী হয়েছিলো মুটে? ১৪টি চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছে রোভাররা।
এর মধ্য দিয়ে রোভারদের ক্যারিয়ার হয়েছে আরো শক্তিশালী। যে ছেলে-মেয়েরা কখনো এসি কিংবা ভি.আই.পি কক্ষের খাটবিহীন কোমল
বেড ছাড়া ঘুমাতোনা, তাদেরই এ সাতটি দিন পার হয়েছে তাঁবুবাসে! খুব ভোর, শুনশান নিরবতা। তখনো
ঘুমন্ত পাখিরা, সূর্য মামার গল্পটা এমনিই। এ সময়েই আরামের ঘুম হারাম! ওদের দেখা মেলে কুয়াচ্ছন্ন শীতকে হার মানিয়ে সু-প্রভাতের ব্যায়ামে ছুটে যেতে। এরপরেই তাঁবুকলা পরিদর্শন ও পতাকা উত্তোলন। চারটি ভিলেজে ১৬টি সাব ক্যাম্প। যেখানে আট হাজার রোভার। অজানা পথে হাইকিং, সমাজ উন্নয়নে রাস্তার খানা-খন্দ মাটি দিয়ে ভরাট, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং কার্যক্রম, বাঁধা পেরিয়ের মতো
কঠিন কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জে প্রতিটি ইউনিটের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। সময় ঘনিয়ে আসে। রাতেই তাঁবু জলসার প্রস্তুতি। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় টিকে থাকা সেরাদের নিয়ে শেষ দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে মহা তাঁবু জলসার। সারা দিনের ক্লান্তিতে
কে না অবসাদ হয়? তাইতো শেষে রোভাররাও ঘুমিয়ে পড়ে। লক্ষ্য থাকে একেবারে প্রাতে উঠা। এভাবেইঅবশেষে কেটে গেলো সাতটি দিন।
কিন্তু কেমন কাটলো রোভারদের এ স্মৃতিমাখা দিনগুলো? আগামির মুট আয়োজন আরো সমৃদ্ধি করতেকয়েকটি গঠনমূলক মতামত তুলে ধরা
হলো। রোভারদের নিরাপত্তা, পানি, টয়লেট ব্যবস্থা কতটা উন্নত ছিলো? দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার রোভারদের নিরাপত্তার জন্য কেবল অস্ত্রহীন সেচ্ছাসেবক কেন? তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা এ মুটের অভিজ্ঞতা বলে দেয়। কে ভালো বা কে খারাপ এত রোভারদের ভিড়ে তা যাচাই করা নিশ্চয় কঠিন। স্বেচ্ছাসেবক আরো দক্ষ করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে জোর করে কাউকে কোন কিছু শেখানো বা জানানো মুশকিল। সে
বিষয়েও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরী পানির তীব্র সংকট কতটা ভোগান্তি বেড়েছে? প্রয়োজনের তুলনায়
নলকূপ স্থাপন ছিলো একেবার নগণ্য। সকাল-সন্ধ্যে কিছুটা পানির দেখা মিললেও গোসল করার সময় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ
করে। অনেকে ২-৩ ধরে গোসল করতে পারেনি। এর ব্যর্থতা কার? বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। এরপর মান সম্মত টয়লেট
ব্যবস্ততা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। দুর্গন্ধ্যের ভেতর কে থাকতে চায়? নিশ্চয় না। তাহলে সে বিষয়টুকুও মাথায় রাখতে হবে।
লেখাটি লেখার মুহুর্তেই মামুনুর রশিদ নামের ২১বছর বয়সি এক রোভারের অভিযোগ, অন্যান্য ক্যাম্প কিংবা মুটে গিয়ে দেখলাম
ফিল্টার মেশিন দিয়ে পরিশোধিত পানি রোভারদের খাওয়ানো হতো। উন্নত সৌচাগারের ব্যবস্থা ছিলো প্রশংসনীয়। কিন্তু এবারের
বিষয়গুলো এলোমেলো মনে হচ্ছে। ওমর ফারুক সহেল(১৮)। নোয়াখালী থেকে যোগ দিয়েছেন মুটে। তিনি জানান, “সব আয়োজন ভালো
লাগলো, কিন্তু আমরা কেন পানির জন্য মানুষের বাড়িতে গিয়ে ছুটাছুটি করবো। কেন ১কিলোমিটার দূরের পুকুরে গিয়ে গোসল করবো। বিষয়টি
সত্যিই দুঃখজনক।” ফারুক আরো বলছিলো, “সবচেয়ে খারাপ লেগেছে মূল ভবন সংলগ্ন পানি পাওয়া গেলেও দূরবর্তী তাঁবুর
পাশে পানির দেখা মিলেনি। আমরা সবাই মুঠোফোন ব্যবহার করি। কিন্তু চার্জার সংযোগে নেই তেমন সুবিধা। একের পর এক সিরিয়াল ধরে
আমাদের বসে থেকে মুঠোফোন চার্জ দিয়ে ফিরতে হয়।” লেখক: জুনাইদ আল হাবিব, সংবাদকর্মী ও রোভার লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ