শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ
এলাকার আধিপত্য ও পুর্বের মারামারির প্রতিশোধ নিতেই রাজিনকে খুন করা হয়। এছাড়াও রয়েছে মেয়েলী ঘটনা। সব মিলে রাজিনকে শায়েস্তা করতে পরিকল্পিতভাবেই ছুরি নিয়ে অনুষ্ঠানে আসে খুনিরা। গতকাল সোমবার মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে খুনের বর্ণনা দিলেন আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৬), মো. সানি ইসলাম (১৪) ও তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩)।
খুলনা পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৪)’র বুকে চাকু ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগে সাব্বির হাওলাদার (১৯)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে রাজিনকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। রূপসার আইচগাতি এলাকায় নানা বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে খালিশপুর থানা কম্পাউন্ডে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহবুব হাকিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এঘটনায় গ্রেফতার এজাহারভূক্ত ৪কিশোরকে গতকাল সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদের মধ্যে আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৬), মোঃ সানি ইসলাম (১৪) ও তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া মো. জিসান খান (১৩)’র আবেদন না থাকায় তার জবানবন্দি গ্রহন হয়নি। মহানগর হাকিম মোঃ শাহীদুল ইসলাম ৩কিশোরের জবানবন্দি গ্রহন শেষে ৪জনকেই যশোর কিশোর শোধনাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে এঘটনার পরপরই র‌্যাবের অভিযানে আটক বয়রা সবুরের মোড় এলাকার মো. লিয়াকত হোসেনের ছেলে মো. রোয়েল (১৪) ও মিতুল নামের দু’জনকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই দু’জনসহ সাব্বির হাওলাদারকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে জানিয়েছেন খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন।
রাজিন হত্যাকান্ডে ৬জনের নাম উলেখসহ অজ্ঞাত ৮/১০জনের বিরুদ্ধে তার শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে দন্ডবিধির ১৪৩, ৩০২ ও ৩৪ধারায় খালিশপুর থানায় ২১জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন (নং-২০)। এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এ হত্যাকান্ডে এজাহারে প্রধান অভিযুক্ত মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেনের ছেলে মডেল স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফাহিম ইসলাম মনি (১৩) পলাতক থাকায় তাকে এখনো পর্যন্ত আটক করা যায়নি।
গতকাল সোমবার বিকেলে পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বয়রা ইসলামীয়া কলেজ রোডের শ্মশানঘাট এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে সাব্বির হাওলাদার (১৯) পাবলিক কলেজের ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনের বুকে চাকু ঢুকিয়ে হত্যা করেছে। তার সাথে যারা ছিলো তারা রাজিনকে কিল, ঘুসি ও হাত ধরে রেখেছিলো। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারি পুলিশ কমিশনার (খালিশপুর জোন) আল বেরুনী, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন