শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ
সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে খুলনার পাটকল শ্রমিক নেতাদের বৈঠক।
বৈঠকে পাটকল শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজে যোগ দেয়ার অনুরোধ শ্রমিক নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের অবহিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
গতকাল ( ১৫ জানুয়ারী)  সোমবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান।
বৈঠকে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান, বিজেএমসি খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি পাটকলের প্রকল্প প্রধান, সিবিএ নেতা, পুলিশের কর্মকর্তা, শ্রমিক অধিদপ্তরসহ সরকারি বেশ কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পাটকলগুলোর প্রকল্প প্রধানরা পাটজাত পণ্য বিক্রির টাকা হাতে পেলে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হবে বলে জানান। তারা শ্রমিকদেরকে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় শ্রমিক নেতারা বলেন, বকেয়া সব মজুরি এক সাথে পরিশোধ না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবে না বলে তাদেরকে জানিয়েছে। তারপরও তারা মিলে ফিরে গিয়ে শ্রমিকদেরকে কাজে যোগদানের আহ্বান জানাবেন বলে প্রশাসককে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে পাটকল শ্রমিক নেতারা জানায়, বকেয়া মজুরির দাবিতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে আটটি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। মিলগুলোতে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ২৫ হাজার শ্রমিকের পাওনা রয়েছে ৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত শ্রমিকরা কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে। টানা ১৭ দিন মিলের উৎপাদনের চাকা না ঘুরলেও সংশ্লিষ্ট মহলের কোন পদক্ষেপ নেই। শ্রমিক পরিবারে হাহাকার বইছে। না খেয়ে মানবেতন জীবন-যাপন করছে। শ্রমিকদের মানবেতন জীবন-যাপনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
এদিকে টানা কর্মবিরতি পালনের ফলে ১৫ কার্যদিবসে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে প্রায় ৩১ কোটি টাকার পাটপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সিবিএ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলো বিজেএমসির এক চিঠির কারণে বন্ধ রয়েছে। ওই চিঠিতে সুদানে পাটপণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ পাওয়া সাপেক্ষে কাঁচাপাট, কাটিং জুট, গ্রাইচ্যুটি বাবদ পরিশোধের কথা বলা হলেও শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির বিষয়ে কোন কথা বলা হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এ কারণে শ্রমিকরা পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এ জন্য বিজেএমসির কর্মকর্তারা দায়ী বলে তারা অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাকির হোসেন বলেন, পাটকলগুলো জন্ম থেকে জ্বলছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য তিনটি পথ রয়েছে। যা আমি গতকালের বৈঠকে উপস্থাপন করেছি। এর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় বাজেটে বস্ত্র ও পাটখাতে অর্থ বরাদ্দ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাওনা সরকারের রাজস্বখাত থেকে পরিশোধের ব্যবস্থা এবং মিল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিএমআরই করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, বৈঠকে মিলের উৎপাদন চালু করার বিষয়ে বলা হয়েছে। বিষয়টি আজ (মঙ্গলবার) গেটসভার মাধ্যমে জানানো হবে। যেহেতু শ্রমিকরাই উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে, সেহেতু তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।