চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি গণহত্যার বিলম্বিত বিচার জাতিকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে। বঙ্গবন্ধুর তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তৎকালীন সিএমপি কমিশনার রকিবুল হুদার নির্দেশে পুলিশ লক্ষ জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের নানানভাবে আড়াল করার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, খুনি রকিবুল হুদাদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়াই সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে আরও নতুন নতুন রকিবুল হুদা সৃষ্টি হবে। গতকাল ২৩ জানুয়ারি বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনষ্টিটিউটে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে চট্টগ্রাম গণহত্যার ৩০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনি ও একে একে চিহ্নহিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে জাতিকে পাপমুক্ত করেছেন। এখন একইভাবে চট্টগ্রাম গণহত্যার খলনায়কদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। মুখ্য আলোচকের ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার প্রাণ নাশের অপচেষ্টা ৩০ বছর আগে এই দিন থেকেই শুরু হয়। এর পর থেকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাকে হত্যার জন্য একে একে পরিকল্পনা চালিয়ে ব্যার্থ হলেও নারী নেত্রী আইভি রহমান সহ শতাধিক নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়েছ্।

বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ঘটনার ৩০ বছর পরও চট্টগ্রাম গণহত্যার প্রধান আসামী রকিবুল হুদা জামিনে মুক্ত হয়ে বেঁচে আছেন। অথচ মামলার বাদী এডভোকেট শহীদুল হুদা বিচারের রায় না দেখেই মৃত্যুবরণ করেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা শেখ মাহমুদ ইছহাক বলেন, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টায় ২৪টি প্রাণ বির্সজিত হয়েছেন। এই হত্যকান্ড ঘাতকদের বিচার হয়নি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সৈনিকরা অস্বস্থিতে থাকবে। আমাদের মনে বঙ্গবন্ধু তনায় শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিসত্তার বাতিঘর। তাকে কিছুতেই নিভতে দেয়া যাবে না।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফর আলী, আই ই বি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: হারুন, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কার্যনির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র, নগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, পুলক খাস্তগীর, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত, রাশেদুল আরেফিন জিসান, নারী নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, নগর ছাত্রলীগ নেতা নাছির উদ্দিন কুতুবী, মোস্তফা কামাল, জালাল উদ্দিন রানা, ইসমাইল হোসেন শুভ, ওমর ফারুক সুমন, ইমদাদুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ। স্মরণানুষ্ঠানের শুরুতেই ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সেদিনের ঘটনায় আহত সকলের জন্য দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে মোনাজাত করা হয়।