সানোয়ারুল ইসলাম রনি। মীরসরাই
দুর্গম পাহাড়ী এলাকার অবহেলিত উপজাতী জনগোষ্ঠি এখন আর পিছিয়ে নেই কোন অংশে। ওরা ও আলোর সন্ধানে নিজেদের পাল্টাতে শুরু করেছে। মীরসরাই উপজেলার মিঠাছরা বাজারে সাপ্তাহিক হাটবার হিসেবে দেখা মিললো বেশ কিছু উপজাতির। অনেকটাই পার্বত্য জনপদ রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি কিংবা বান্দরবান এর পাহাড়ী জনপদের আদলে ওরা কেউ বাঁশের তৈরী হুক্কাতে টান দিচ্ছে। কেউ হাট থেকে এটা সেটা কিনছে, কেউ বা কে কি কিনলো পরস্পর জানাচ্ছে। কেউ আর কারো সাথে দেখা হবে তার অপেক্ষা করছে।
উপজাতি মহিলারা থামি কিংবা দোপাট্টা, পুরুষেরা লুঙ্গি ফতুয়রা, কেউ শার্ট পরে যেন সাপ্তাহিক আড্ডা আর মিলনমেলায় হাসিমুখে বেশ খোলামেলা বিচরন করছিল আর প্রয়োজনীয় কাজ সারছিল। তাদের দলের অন্যতম মহিলা ফুলিখা চামকা কোথায় বাস করে কি করে ওরা জানতে চাইলে সে বলে পার্বত্য লক্ষিছড়ি থেকে কয়েক বছর পূর্বেই এসেছে ওরা। ওরা মীরসরাই সদর সংলগ্ন ব্রাক এলাকায় থাকে। বিভিন্ন কৃষি কাজ সহ একেক জন একেক পেশায় কাজ করে। সত্তর চাকমা বলে সে মহামায়া এলাকায় পরিবার সহ থাকে। আরো অনেক পরিবার আছে এখানে ওরা ও লক্ষিছড়ি থেকে এসেছে। মাছ ধরা, কৃষি কাজ, পাহাড়ে জুম চাষ ইত্যাদি কাজ করছে। পার্বত্য জনপদ থেকে এখানে ওদের বেশ ভাল লাগছে। আগের চেয়ে ওরা এখন বেশী সুদিন অতিবাহিত করছে।
পায়েল ত্রিপুরা বলে, সে মহামায়া লেকের ভেতরের একটি স্থানে জুম এবং আনারসের চাষ করেছে এবার আনারস বিক্রি করে তারা খুবই লাভবান। তাদের আনারস বিষমুক্ত। কারণ এর ফলনে কীটনাশকের প্রয়োগ হয়নি। এ আনারস গাছেই পাকছে। তারপর এগুলো বিক্রির জন্য বাজারে আনলে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যায়। উন্নজ জাত বলে তাদের ফলন করানো আনারসের কদর বেড়ে উঠছে। কয়েক বছর আগেও এখানে পাহাড়ে প্রচুর জমি পতিত পড়ে থাকত। এসব জমিতে কোনো ফসল চাষ হতো না । পায়েল বলে আমি বেকার ছিলাম, এখন বেকার নই। বছরজুড়ে আনারসসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করে সৎপথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি। তিনি জানান শুধু কিছু পরিমাণে সার ও গোবর দিয়েই ভাল ফলন হচ্ছে এখানে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, এখানকার পাহাড়ী এলাকায় সকল প্রকারের সবজি ও ফলমুল এর জন্য বেশ উপযোগি। এই উপজাতীরা আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমাদের পক্ষ থেকে ভালো ফলন পেতে চাষিদের নানাভাবে সহযোগিতা দেয়া হবে। চাষিরা পাহাড়ি পতিত জমিকে উর্বর করে উন্নত জাতের আনারস চাষ করেছে তিনি তাদের আরো উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নিবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে চাষ হলে আনারস বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। যদিও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু পরিমাণে আনারস প্রবাসীরা খাবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তায় আনারস চাষ হলে এখানে ফলন আরও বেশি হবে।
সর্বোপরী লক্ষ্য করা গেছে একসময় পাহাড়ী জনগোষ্ঠির এইসব উপজাতিরা বাঙ্গালী কমিউনিটিতে তেমন একটা বেরিয়ে আসতো না। বিশেষ করে মীরসরাই উপজেলার মতো বাঙ্গালী প্রধান ও অতি নগন্য উপজাতী জনগোষ্টি হিসেবে উপজাতীরা নিজেদের গুটিয়েই রাখতো। কিন্তু দিন বদলাচ্ছে। এই উপজাতি জনগোষ্ঠি ও এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার সমযোদ্ধা এখন। নিজেদের ভাগ্য ও বদলাচ্ছে ওরা।