শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি পাটকলের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদানের দাবিতে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য দিনের মতোই গতকাল শনিবার কর্মবিরতির অষ্টম দিনে উৎপাদন বন্ধ রেখে গেটসভা করেছে। এদিকে প্লাটিনাম  ও খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় দোকানী, ব্যক্তি ও ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে কিছু টাকা তোলেন। আর সেই টাকা দিয়ে নিজেরা নোঙ্গরখানা খুলে খিচুড়ি রান্না করে খান শ্রমিকরা। দুপুরে প্লাটিনাম জুট মিলের সামনে বিআইডিসি রোডে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরি প্রদান, মজুরি কমিশন ঘোষণাসহ ১১ দফা দাবিতে আজ রবিবার ঢাকায় সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন সারাদেশের পাটকলের সিবিএ-ননসিবিএ নেতাদের বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সিবিএ নেতারা জানিয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রত্যেক মিল গেটে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুরে খুলনা অঞ্চলের পাটকলের শ্রমিক নেতারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া ২০১৫ সাল থেকে পে কমিশন প্রদান করা হচ্ছে। অথচ শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরী কমশিন গত আড়াই বছরে বাস্তবায়ন করেনি। ফলে শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। কর্তৃপক্ষ বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মজুরী কমিশন গঠন করেনি। বরং তাদের সাপ্তাহিক মজুরী দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শ্রমিকরা ফুসে উঠেছে। শ্রমিকরা মিলের কাজ বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগদান করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ ঢাকায় সারাদেশের সিবিএ-ননসিবিএ নেতাদের এক বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
খালিশপুর জুট মিলের সিবিএ কার্যকরী সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মানিক বলেন, সকালে স্থানীয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিছু টাকা তুলে শ্রমিকরা দুপুরে খিচুড়ি রান্না করে খেয়েছেন।
শ্রমিকরা জানান, বকেয়া মজুরি প্রদানের দাবিতে আন্দোলন করা হলেও বিজেএমসি ও পাটমন্ত্রণালয় পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি। গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ন, দৌলতপুর ও যশোরের জেজেআই জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। আর সন্ধ্যায় আলিম জুট মিল এবং ৩০ ডিসেম্বর সকালে খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরাও উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এই ৮টি পাটকলে পাটজাত পণ্য উৎপাদন এখনও বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। এ অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ২৬ হাজার ৭১৮ জন শ্রমিকের ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।