সানোয়ারুল ইসলাম রনি । মীরসরাই (চট্টগ্রাম)
রূপ, রং আর ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ এই আমাদের বাংলাদেশ। নতুন চালের ভাত, পিঠাপুলি, আর পায়েসের গন্ধ ভেসে আসে প্রায় প্রতিটি ঘর থেকে।
আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে কৃষিক্ষেত্রে। ধান বপন, রোপণ, ধান কাটা, মাড়াই করা এমনকি ধান থেকে চাল করা নিয়ে প্রত্যেকটা কাজই সম্পন্ন হচ্ছে বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার দ্বারা। গরু আর লাঙ্গল টানা সেই জরাজীর্ণ কৃষককে এখন আর দেখা যায় না। হালের গরু ছেড়ে কৃষক এখন সাহায্য নেয় ট্রাক্টরের।
৫ মিনিটেই জমি প্রস্তুত। বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। পাম্পে সেচ কাজ করে পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। নিত্যনতুন সব কীটনাশক বাজারে আসছে। এখন আর কৃষককে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে ধানের বীজ তার শষ্যক্ষেতে ছিটিয়ে দিতে হয় না। বীজ ছিটানোর জন্যে এখন আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ধানের পাতা পরীক্ষা করে জমির উপযোগী কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ধানের আগাছা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার হচ্ছে এক ধরনের দাঁতালো যন্ত্র। ধান কাটার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে ধান কাটার যন্ত্র। দিনব্যাপী চাষাকে আর গায়ের ঘাম ঝরিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে না।
এখন হরেক রকম ধান মাড়াইযন্ত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ করে আসছে। বিজ্ঞান এবং আধুনিকতা দুইয়ে মিলে কৃষিকাজে এনে দিয়েছে আমূল পরিবর্তন। তবে এটাও ঠিক বিজ্ঞানের এই নব নব আবিষ্কারের ভিড়ে হারাতে বসেছে গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতি, স্বকীয়তা ও সত্তা। আর এই বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির প্রত্যেকটিই খুব ব্যয়বহুল। তবে বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে সহজ, সাবলীল আর অর্থনীতির চাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।
মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় কয়েকটি পরিবারে এখনো গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে। মীরসরাই উপজেলার হাইতকান্দি এলাকার মামুন হোসেন ও হাসান দুই ভাই তারা এখন ও গরু দিয়ে ধান মাড়াই করেন তারা দুই জন বলেন, মীরসরাই উপজেলাতে আগে প্রতি ঘরে ঘরে গরু দিয়ে ধান মাড়াই হতো। এখন মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই হয়। এতে ব্যয় একটু বেশি হলেও সময় বাঁচে। গরু দিয়ে ধান মাড়ানো সম্পর্কে তারা বলেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো গরু দিয়ে ধান মাড়াই করছি আমরা।
মীরসরাই উপজেলার দমদমা এলাকার আরেক কৃষক আবু তাহের বলেন, আমি এখন ও গরু দিয়ে ধান মাড়াই করি। আগে আমার দাদা করতো তার পর আমার বাবা আর এখন আমি নিজের গরু দিয়ে ধান মাড়াই করি এখনও।